পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

ভিকারুননিসায় বেরিয়ে এলো থলেরবিড়াল

সংযোগ নিউজ: ৫ জানুয়ারী ২০১৮ ঢাকা:  নাঈম আহমেদ জুলহাস ।          অরিত্রী আত্মহত্যায় বেরিয়ে এলো থলেরবিড়াল। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা করার দোষীদের শাস্তি সহ গভর্নিং বোর্ড বাতিলের দাবীতে ক্ষুব্ধ অভিভাব ও শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার সকাল থেকে ক্ষুব্ধ ছাত্রী ও অভিভাবরা বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুলে এন্ড কলেজের ফটকে জড়ো হন। সেখানে তাঁরা একি শুধু আত্মহত্যা, ব্যর্থতা স্কুলের, কিলস স্টুডেন্টস, এই তীব্র স্লোগান মুখরিত ছাত্রী ও অভিভাবরা। আমরা আর অরিত্রী চাই না ,উই ওয়ান্ট জাস্টিস, গভর্নিং বডির পদত্যাগ চাই, সহ ছয় দফার দাবি নিয়ে ভিবিন্ন হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন ।

দিনভর থেমে থেমে তাঁদের বিক্ষোভ চলে। সারা দিনই গণমাধ্যমগুলোতে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা ভিকারুননিসার বিভিন্ন অনিয়ম, শিক্ষক সহ অভিভাবক প্রতিদিন দুর্নীতির কথা তুলে ধরেন। এসময় একজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষকরা পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় এলে শিক্ষার্থীদেরকে এক বিষয়ে অকৃতকার্য দেখিয়ে বিষয় প্রতি দশ হাজার টাকার বিনিময়য় উত্রির্ন দেখানো হয়ে থাকে। আমরা কোন প্রকার কথা বলতে পারিনা। এভাবে পরীক্ষা গুলো থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা বাণিজ্য করেন বলে শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের অভিযোগ রয়েছে। ভর্তি বাণিজ্য নানা অভিযোগ করে তিনি কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকার নাম প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্দে অভিযোগ করে বলেন, এরা মানুষ গড়ার কারিগর নয় এরা নির্দয়ালু। ওই সকল শিক্ষক-শিক্ষিকারা অর্থের জন্য সব করতে পারে। আমাদের সন্তানদের কোচিং করতে বাধ্য করে, আর এই সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সবাইয় চেনে, লুৎফুন্নাহার, (বাংলা) রাইমা ওয়াহেদম,(ধর্ম)তাজরিয়া রহমান, (গার্হস্থ্যবিজ্ঞান) মোঃ নাসির উদ্দিন,(অংক) মুশতারী সুলতানা,(টিআর) সামিরা বারি,(জুনিয়ার শাখা) লাকী জাম),(জুনিয়ার শাখা ধর্ম)ফারহানা, (কলেজ টিআর)। অভিভাবকদের অভিযোগের ভিক্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে মুশতারী সুলতানা,(টিআর) বলেন, স্কুলে একটু আকটু সমস্যা থাকতেই পারে। একজনের বিরুদ্দে অভিযোগ থাকতেই পারে তবে পারসেন্টিস কতটুকু! অভিভাবকেরা যে ভাবে শিক্ষকদের বিরুদ্দে অভিযোগ করে সেটা ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, ছাত্রীরা দীর্ঘদিন অমনোযোগী এই ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ডাকলে অভিভাবকরা বিরক্ত হন। তিনি বলেন এই প্রতিষ্ঠানে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা।
এদিকে অভিযুক্ত সামিরা বারী (জুনিয়ার শাখা) যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিক্তিহিন।
এবিসয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দীন (অংক) বার বার ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। এক শিক্ষার্থী বলে, আমরা কোনোভাবেই অরিত্রীর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। আত্মহত্যার প্ররোচনায় যারা যারা জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এক শিক্ষার্থীর মা, জাহানারা বেগম বলেনন, শিক্ষার্থী পা ধরেও ক্ষমা চেয়েছে। তারা তাকে মাফ না বরং তার বাবা-মা’কে অপমান করেছে। তাকে টিসি (ছাড়পত্র) দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের যে আচরণ কাজেই এটাকে হত্যা বলতে চাই। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নাসরীন নামের এক অভিভাবক বলেন, কিছু শিক্ষক খারাপ। তাদের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। তারা তুচ্ছ ঘটনায় অভিভাবকদের ডেকে নেয়। সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এত বড় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অথচ এখানে শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। অভিভাবক দিলরুবা জাহান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল পাওয়া গেলে, তার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হবে, তা শিক্ষকেরা জানেন না। অভিভাবক আমিনুল ইসলাম বলেন, স্কুলটি দুর্নীতিতে ভরা। রয়েছে নানা অনিয়ম এসব দূর হওয়া দরকার। অভিভাবক সুদিপ ভট্টাচার্য বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে কোটি কোটি টাকার ভর্তি বাণিজ্য হয়। এই অরিত্রীর সিটটিও লাখ টাকায় বিক্রি হবে। অরিত্রীর সহপাঠীরা বলেন, আমরা মঙ্গলবারের পরীক্ষা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছিলাম। কারণ, আমরা সবাই শোকাহত ছিলাম। তার পরও পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। আজ অনেকেই পরীক্ষা দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ভিকারুননিসা স্কুলের অনেক শাখা পরীক্ষা স্থগিত করলে, তার শিডিউল মেলানো কঠিন হয়ে যায়। তাই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। তবে যারা পরীক্ষা দেয়নি, তারা পরে দিতে পারবে।

অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা এই ঘটনার যথাযথ বিচার দাবি করেন। আজও সকাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেইলি রোডের শাখার প্রধান ফটকে বিক্ষোভ শুরু করেছে কয়েক শ শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অনেক অভিভাবক।

Related posts

Leave a Reply

%d bloggers like this: